
শফিকুল ইসলাম,দিনাজপুর দঃ জেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন চত্বরে শনিবার (১৮ জুলাই) ছিল জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে মুখর এক ব্যস্ত দিন। শিক্ষা, কৃষি, সমাজকল্যাণ, প্রতিবন্ধী সেবা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—এ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সহায়তা একযোগে বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন।দিনব্যাপী আয়োজনে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল সহজ করতে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করা হয়। শিশু প্রতিবন্ধীদের জন্যও বিশেষভাবে সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।কৃষি খাতেও ছিল সরকারের বিশেষ উদ্যোগ। কৃষকদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ, উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় তুলা চাষ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “সরকারের লক্ষ্য সমাজের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া। দরিদ্র, মেধাবী শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নারী, শিশু এবং কৃষকদের উন্নয়ন নিশ্চিত করেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার শিক্ষা, কৃষি ও সমাজকল্যাণ খাতে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, “কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রণোদনা ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে আর্থিক সহায়তা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সেবার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।”অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ সুধীজন ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয়দের মতে, একই দিনে শিক্ষা, কৃষি, সমাজকল্যাণ, প্রতিবন্ধী সেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে এত বিস্তৃত সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন সরকারের সমন্বিত উন্নয়ন ভাবনারই প্রতিফলন। তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকলে শিক্ষার মানোন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।