
এমডি রেজওয়ান আলী,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি | ১৯ জুলাই ২০২৬ উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর জেলায় চলতি ২০২৬ -২৭ আমন মৌসুমে রোপা আমন চাষের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে,এ মৌসুমে জেলায় মোট ২ লাখ ৭২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। রোপা আমন চাষ সফল করতে জেলায় ১০ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বীজ তলা প্রস্তুত করা হয়েছে। কৃষকরা এখন পুরোদমে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আমন মৌসুম সফল করতে জেলার ১৩টি উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের সময়মতো বীজতলা প্রস্তুত, জমি চাষ, সঠিক সময়ে চারা রোপণ এবং রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আগাম জাতের আমন চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক থাকায় অনেক কৃষক ইতোমধ্যে জমি প্রস্তুত করেছেন। কেউ কেউ আগাম জাতের চারা রোপণও শুরু করেছেন। কৃষকদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ফলন ভালো হবে। বিরামপুর উপজেলার বেলখুরিয়া গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, “এবার বৃষ্টিপাত ভালো হওয়ায় জমি প্রস্তুত করতে সুবিধা হচ্ছে। আগাম জাতের আমন রোপণ শুরু করেছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করলে ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি।”
হাকিমপুর উপজেলার কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, “আমন ধান আমাদের প্রধান ফসল। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় চাষাবাদে সুবিধা হচ্ছে। তবে সার ও কীটনাশকের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে কৃষকরা আরও উপকৃত হবেন।”
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, “চলতি আমন মৌসুমে ২ লাখ ৭২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি,যাতে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাষাবাদ সম্পন্ন করতে পারেন।” তিনি আরও বলেন,উন্নত জাতের ধান চাষ,সুষম সার ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এবার আমনের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টি বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দিনাজপুরে আমন চাষ সফল হলে শুধু জেলার খাদ্য উৎপাদনই বাড়বে না, দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই কৃষক,কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবার আমন মৌসুমে রেকর্ড উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।