
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে যুবক এনামুল হক (২৯)কে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এক আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯।
শনিবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টায় র্যাব-৯, সিলেট সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. কামাল (৪০)। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জগতপুর এলাকার মৃত আবু জাফরের ছেলে এবং হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি।
র্যাব জানায়, নিহত এনামুল হক কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার উত্তর মাঝিগাছা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কয়েকজন অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে গরুর ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অংশীদারদের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকি দেয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ মে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা এনামুল হককে বুড়িচং থানার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি শরীরের অধিকাংশ অংশ দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ মে ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে কুমিল্লার বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ও সিপিসি-২ (শ্রীমঙ্গল)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ১০ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার গোকর্ণঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় হত্যা মামলার পলাতক এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি মো. কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।