
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের শ্রীয়াং পশ্চিমপাড়া এলাকায় রাজাপুর বাজার থেকে প্রায় ৮১০ মিটার পূর্ব পাশে অবস্থিত কামালের দোকানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে গিয়ে শুধু অভিযোগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বিষয়টি—সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবেদক নিজেই দেখতে পান নানা ধরনের খেলার আয়োজনের দৃশ্য। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দোকানটির কার্যক্রম কয়েকটি ধাপে পরিচালিত হচ্ছে। সামনের অংশে চলছে চা ও মুদি পণ্যের বেচাকেনা। এর পেছনের অংশে চলছিল টুয়েন্টি নাইন খেলা। আরও ভেতরের অংশে বড় পরিসরে ‘কাইট’ খেলার আসর দেখা যায়। এছাড়া দোকানের পাশেও কেরাম খেলার আড্ডা চলতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানের আড়ালেই নিয়মিত বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে জড়ো হন এবং চলে বিভিন্ন ধরনের জুয়ার আয়োজন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং তরুণ সমাজ বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহে প্রতিবেদক পরবর্তীতে কৌশলে সিএনজি চালকের পরিচয়ে মুঠোফোনে অভিযুক্ত কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
মুঠোফোনে কথোপকথনের একপর্যায়ে কামাল বলেন, “এখানে কাইট খেলা চলে, কোনো সমস্যা নাই।” পরে পুলিশি কোনো ঝামেলা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পুলিশের কোনো ঝামেলা নাই, লোক নিয়ে আসতে পারেন।”
এছাড়াও তিনি বলেন, “এখানে পুলিশের কোনো ঝামেলা নাই।” তার এমন বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে গত ২০ মে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-কে মুঠোফোনে অবগত করা হলেও ২১ মে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
একটি থানার সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না দেখায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল কি না।
কামালের বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যেও আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনমনে আলোচনা শুরু হয়েছে—তার এমন আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যের পেছনে কোনো প্রভাব বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না।
এ বিষয়ে লাকসাম সার্কেল অফিসার সনদ বড়ুয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধান চলছে। সামনে আসতে পারে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন পরবর্তী নিউজে।