
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–
“গতি, সেবা ও ত্যাগ” এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে উৎসবমুখর পরিবেশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিজয়নগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর ও স্টেশন ইনচার্জ মোঃ ওয়াসি আজাদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সকিনা আক্তার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সকিনা আক্তার বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আমাদের প্রতিটি দুর্যোগ ও সংকটে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে কাজ করে। নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করার যে মহৎ দায়িত্ব তারা পালন করছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয়। উপজেলা প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে আছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা অপরিসীম।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদানকালে সভাপতি ও স্টেশন ইনচার্জ মোঃ ওয়াসি আজাদ ফায়ার সার্ভিসের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “১৯৭১ সালের ৯ মে ফায়ার সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সেই থেকে আজ পর্যন্ত যেকোনো অগ্নিদুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবসৃষ্ট সংকটে ফায়ার সার্ভিস সবার আগে সাড়া দিয়ে আসছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বর্তমানে এই বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,
ডাঃ মোঃ সুমন ভূইয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
মোঃ জমির হোসেন দস্তগীর, সভাপতি, উপজেলা বিএনপি।
মোঃ রুমান (বাচ্চু মিয়া), সাধারণ সম্পাদক, চম্পকনগর ইউনিয়ন বিএনপি।
এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মোঃ নাসির উদ্দীন। বক্তারা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সেবামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সাধারণ মানুষকে অগ্নি নির্বাপন বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে স্টেশন চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত মহড়ার (ডেমনস্ট্রেশন) আয়োজন করা হয়। মহড়ায় ফায়ার সার্ভিসের দক্ষ কর্মীবাহিনী আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক কৌশলে কীভাবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং দুর্যোগে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করা যায়, তার বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন। এরপর অতিথিবৃন্দ স্টেশনের বিভিন্ন আধুনিক উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি পরিদর্শন করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী (সাংবাদিক), বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সুধী সমাজের প্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী আলোচনা সভার আগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি স্টেশন চত্বর প্রদক্ষিণ করে।