
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় টানা পাঁচ দিন ধরে চলছে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের সরবরাহ না থাকায় উপজেলার পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পেই জ্বালানি শূন্য। বিশেষ করে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে কোনো জ্বালানি নেই। পাম্পের সামনে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে দূরপাল্লার ও স্থানীয় যানবাহনগুলো তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে। তবে বর্তমানে উপজেলার অন্তত তিনটি প্রধান ফিলিং স্টেশনে কোনো ধরনের জ্বালানি মজুদ নেই। সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাম্প কর্তৃপক্ষও অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে সরাসরি গণপরিবহনে। একাধিক বাস ও ট্রাক চালক আক্ষেপ করে বলেন, “পাঁচ দিন ধরে তেলের জন্য হাহাকার করছি। তেল না থাকায় গাড়ি গ্যারেজে বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে আমাদের রুটি-রুজিতে টান পড়েছে, আর যাত্রীরাও তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।”
এদিকে জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অফিসগামী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ বলছেন, তেলের অভাবে বাস চলাচল সীমিত হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের সিএনজিতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টানা পাঁচ দিন ধরে এমন অচল অবস্থা চললেও সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিজয়নগরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অন্যথায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।