
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় স্বামীর সঙ্গে ভাশুরের স্ত্রীর (ভাবি) কথিত পরকীয়া সম্পর্কের জেরে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর নাথপাড়া গ্রামের জুলমত আলীর ছেলে সুমন মিয়ার সঙ্গে শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয় বিজয়নগর উপজেলার জালালপুর পূর্বভাগ গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে সেতু আক্তার কারিমার।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের কিছুদিন পর সেতু জানতে পারেন, তার স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে আপন বড় ভাই নজু মিয়ার স্ত্রী মুক্তা বেগমের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একাধিকবার কথা কাটাকাটি হলেও সেই সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। পরবর্তীতে মুক্তা বেগমও সেতুর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি সেতু তার বাবা-মাকে জানালে তারা তাকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে সুমন মিয়া পুনরায় বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী সেতুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ না করে মুক্তা বেগমের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতেন। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও কল চলাকালে মুক্তা বেগম ইচ্ছাকৃতভাবে সেতুকে তা দেখিয়ে বিভিন্ন কটূক্তি করতেন এবং তাকে আত্মহত্যার জন্য উসকানিমূলক কথাবার্তা বলতেন।
নিহতের মা বাবা ও বোনসহ পরিবার দাবি করেছে, গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভিডিও কলে কথা বলার সময়ও মুক্তা বেগম সেতুকে অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং বিষপান কিংবা গলায় ফাঁস দিয়ে মরার কথা বলেন। এ সময় সেতু কান্নাকাটি করে শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানালেও অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে সান্ত্বনা না দিয়ে শাশুড়িও গালমন্দ করেন।
পরদিন ২৪ জুলাই শুক্রবার নিজ ঘরে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সেতু আক্তার কারিমা।
নিহতের মামা রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তারা শাহবাজপুর নাথপাড়ায় গিয়ে দেখেন, সেতুর শাশুড়ি ও মুক্তা বেগমসহ অভিযুক্তরা বাড়িতে ছিলেন না। তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও একই পরিবারের আরেক পুত্রবধূ আত্মহত্যা করেছিলেন। সেই ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এবং ওই মামলায়ও মুক্তা বেগম আসামি।
অভিযুক্ত মুক্তা বেগম ও সেতুর শাশুড়িকে বাড়িতে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় সেতুর বাবা ফরিদ মিয়া বাদী হয়ে সরাইল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে সুমন মিয়া, মুক্তা বেগম, সোহাগ মিয়া, তাছলিমা ও ফরিদ মিয়াকে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।