
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের কালীচান্না গ্রামের একই বাড়ীর দুই শিশুর খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে টানা কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যরা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।,
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন দুপুরে দুই শিশুর মধ্যে খেলাধুলার একপর্যায়ে একজন শিশুকে নৌকা থেকে নামিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। প্রথমে কথাকাটাকাটি হলেও পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এরপর কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের জেরে শনিবার কয়েকটি বসতঘরে লুটপাট চালানো হয় এবং একটি অটোগাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
সর্বশেষ ৯ জুন রাতে একটি কুঁড়াকুড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি গরুকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা পরিবার।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ একটি পক্ষের পাঁচজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন বলে জানা যায়।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “দুই শিশু বাচ্চার খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের মামলা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।” তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
এদিকে, নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।