1. aparadhsangbad@aparadhsangbad.com : aparadhsangbad :
ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে জীবন বাজি রেখে চলাচল, দুর্ভোগে ৭ গ্রামের হাজারো মানুষ - অপরাধ সংবাদ
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
পটুয়াখালীতে এক হাতে ছাতা, অন্য হাতে কলম- বৃষ্টির মধ্যেই পরীক্ষা দিলো শিক্ষার্থীরা৷৷ বীরগঞ্জ থানার উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন৷৷  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ, আগুনে পুড়ে ধ্বংশ৷৷ সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশলী বললেন, “আমরা এখনো কাজ শুরু করিনি” গলাচিপায় পানিতে ডুবে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু৷৷ বাউফলে বাকপ্রতিবন্ধীকে ধ/র্ষণে; অভিযুক্ত আনোয়ার বয়াতী’ র‌্যাব-৮ এর অভিযানে গ্রেফতার৷৷  পটুয়াখালী শিল্পী কল্যাণ সমিতির বর্ষা বরণ অনুষ্ঠিত৷৷ মির্জাগঞ্জে দালালমুক্ত ভূমি অফিস গড়তে প্রশাসনের অভিযানে আটক-১”” খরস্রোতা পায়রা নদীর কড়াল থাবায় পটুয়াখালী সদরের ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম প্রায় বিলীন হওয়ার পথে৷৷ জলাবদ্ধতার কবলে পটুয়াখালী শহর, দ্রুত পদক্ষেপ চান বাসিন্দারা৷৷

ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে জীবন বাজি রেখে চলাচল, দুর্ভোগে ৭ গ্রামের হাজারো মানুষ

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের দুশমির খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুটির মাঝখানের ঢালাই ধসে পড়ে ভেতরের লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে কাঠের তক্তা বিছিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণের পর গত ২১ বছরেও সেতুটিতে কোনো ধরনের সংস্কার বা মেরামত কাজ করা হয়নি। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুর বিভিন্ন অংশের কংক্রিট ক্ষয়ে গিয়ে বর্তমানে মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভেতরের লোহার কাঠামো উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।

এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল উত্তর ঘটকের আন্দুয়া, কুমারখালী, মানসুরাবাদ, চিংগাছিয়া, পিপড়াখালী, সুন্দ্রা-কালিকাপুর ও কলাগাজিয়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন উপজেলা সদর ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াত করেন। সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। উত্তর ঘটকের আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাগাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ঘটকের আন্দুয়া সালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, হাজী আশরাফ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ঝাটবুনিয়া এম.ই. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছে।

এছাড়া জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতেও এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিকল্প কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু।

কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। এলাকার কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার প্রধান পথ হওয়ায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভ্যান, রিকশা ও অন্যান্য পণ্যবাহী যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল বাশার নাসির বলেন, “সেতুটি বর্তমানে সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, “সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : Aparadhsangbad