1. aparadhsangbad@aparadhsangbad.com : অপরাধ সংবাদ : অপরাধ সংবাদ
  2. info@www.aparadhsangbad.com : অপরাধ সংবাদ :
সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে মহা সড়কে জনতার ঢল। - অপরাধ সংবাদ
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কাজিপুরে দুই মাদকসেবীর কারাদন্ড কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ৯- নং দক্ষিণ শিলমুড়ী ইউনিয়ন পরিষদ এর প্যানেল চেয়ারম্যান  ও সচিবের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ৷ বিজয়নগর উপজেলা সমিতি, ঢাকার উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান বিজয়নগরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবুও তেল নেই—লাকসামের এলপিজি স্টেশনে ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জরিমানা বরুড়ায় অবৈধ ভাবে ফসলিজমির মাটি কেটে বিক্রি ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় সীমান্তে কড়া নজরদারি: বিজিবির হাতে ধরা ৭২ লাখ টাকার শাড়ি শুধু প্রেস কার্ড গলায় ঝুলিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার দিন এবার সত্যিকার অর্থেই শেষ হতে চলেছে। ভুয়া সাংবাদিকদের চিরতরে বিদায!!! চান্দিনা মহাসড়কে জাল টাকা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় আটক ১জন; বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ল্যাপটপ ও প্রিন্টার জব্দ

সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে মহা সড়কে জনতার ঢল।

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৫০ বার পড়া হয়েছে

আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ-

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রস্তাবের প্রতিবাদে পঞ্চমবারের মতো পশ্চিম পাড়ার মতো ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে এলাকাবাসী। বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের ডাকবাংলো মোড়ে সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের ডাকে এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়, যা বেলা ১টা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
সম্প্রতি ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত এক খসড়া প্রস্তাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন—চান্দুরা, হরষপুর এবং বুধন্তি—বিচ্ছিন্ন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এই প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিজয়নগরের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
এরই প্রতিবাদে আয়োজিত আজকের অবরোধ কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। আন্দোলনকারীরা ‘অখণ্ড বিজয়নগর চাই’, ‘বিজয়নগর নিয়ে ষড়যন্ত্র, রুখে দাও জনতা’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত করে তোলে রাজপথ।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত জনগণের মতামতের পরিপন্থী, অযৌক্তিক ও জনবিরোধী।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিজয়নগর উপজেলা ১০টি ইউনিয়ন একত্র থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন সময়ে সদর, সরাইল বা নাসিরনগরের সঙ্গে যুক্ত করে আমাদের অবহেলা করা হয়েছে।”
ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আফজাল হোসেন বলেন, “আমরা সদর আসনেই থাকতে চাই এবং আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই বিভাজন বিজয়নগরের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী এবং তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ রফিকুল ইসলাম এবং চান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল হকের পাশাপাশি অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এ এইচ এম গোলাম জহির, ছায়েদ খন্দকার, শিহাব উদ্দিন, এস এম রাষ্টু সরকার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই তিনটি ইউনিয়ন বিজয়নগরের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রশাসনিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে এই স্থানান্তর অযৌক্তিক। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিজয়নগরের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, আগামী ২৪ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে এই বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, কর্তৃপক্ষ জনগণের সেন্টিমেন্টকে গুরুত্ব দিয়ে বিজয়নগর উপজেলাকে অখণ্ড রেখে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে। অন্যথায় রেলপথ অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, চান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আফজাল হোসেন আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক আলী ইমরান, হুমায়ুন কবির ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, বুধন্তী ইউনিয়নের মাহবুবুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, খাবিরুর রহমান মনির, আবদুল কাইয়ুম রাষ্টু, ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনাম খান, যুবদলের সভাপতি নূর মুহাম্মদ আরাফাত, জাকির হোসেন শাহ আলম, মামুনুর রশীদ, যুব দলের যুগ্ন আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, সোহাগ খন্দকার, কাজল মিয়া, ছায়েদুল ইসলাম, হেফাজতের কবির হোসাইন, মুবাশ্বির হোসাইনসহ আরও অনেকে।
অবশেষে জেলা প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে দুপুর ১টায় অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এই বিক্ষোভে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, খেলাফতে মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট