
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–তিতাস নদী ও এর সংযুক্ত খাল-বিলের দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ জালবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, রিং জাল ও চিংড়ি মাছ ধরার বটল ফাঁদ জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে কাউতলী-কুরুলিয়া খাল থেকে ভাদুঘরের পূর্বপাশের বয়ালীয়া বিলসহ আশপাশের কয়েকটি জলাশয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দকৃত কারেন্ট জাল, রিং জাল এবং অন্যান্য অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে আনন্দবাজার এলাকায় জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন মৌসুমে নদী, খাল ও বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অভিযানে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, সোহেল রানা ভূঁইয়াসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং তিতাস নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে জেলা মৎস্য বিভাগের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। কারেন্ট জাল ও অন্যান্য অবৈধ উপকরণের নির্বিচার ব্যবহারে মা মাছ, পোনা ও ছোট মাছ ধ্বংস হচ্ছে, যা দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি সৃষ্টি করছে। তাই আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, তিতাস নদী শুধু একটি নদী নয়, এটি এ অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও হাজারো মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতিই একসময় বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে নদী ও জলাশয় রক্ষার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।