
স্টাফ রিপোর্টারঃ–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের প্রতিবাদ করায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ আমির খান ও তার পরিবারের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টা এবং বাড়িঘর লুটপাটের অভিযোগ। উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কালাছড়া গ্রামে প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের এই তান্ডবে বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাছড়া গ্রামের মৃত সেমেদ মিয়ার ছেলে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় কর্মী আমির খান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্য গাঁজা, ইয়াবা ফেন্সীডিল পাচার, স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এই প্রতিবাদের জেরে স্থানীয় প্রভাবশালী হানিফ মেম্বার ও তার সহযোগীদের রোষানলে পড়েন তিনি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল বিজয়নগর থানায় হানিফ মেম্বারকে প্রধান আসামি করে কামরুল ইসলাম মান্টু, আমজাত হোসেন, বাবুল মিয়া, তৌহিদ মিয়া, রাসেল মিয়াসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন আমির খান বাদি হয়ে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছে। এসবের প্রতিবাদ করায় আমির খানকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আমির খান জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমির খানের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় আমির খান ও তার ভাই গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভুক্তভোগী পরিবারটি জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
আদালত ও থানা সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় বেশ কয়েকজন আসামি গত ৭ এপ্রিল তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে পুনরায় আমির খানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আসামিদের অব্যাহত হুমকির মুখে বর্তমানে বাড়িছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে পরিবারটির।
ভুক্তভোগী আমির খান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা দেশের সংস্কারের জন্য রাজপথে নেমেছিলাম। কিন্তু নিজের গ্রামেই আজ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে আমরা জিম্মি। তারা প্রকাশ্যে আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নির্মূলসহ নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিজয়নগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।