1. aparadhsangbad@aparadhsangbad.com : aparadhsangbad :
পায়রার করাল গ্রাসে মির্জাগঞ্জ: জিওব্যাগেও ঠেকানো যাচ্ছে না ভাঙন৷৷ - অপরাধ সংবাদ
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
গলাচিপা কেন্দ্রীয় কালিবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী অষ্টকালীন লীলাকীর্তন শুরু৷৷ দিনাজপুর মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মোছাঃ শিল্পি খাতুন পাশে দাঁড়ানোর মানবিক আবেদন৷৷ বাউফলে সাংবাদিক ও ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ; দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা!! পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাংবাদিককে হাতুড়ি পে/টা, গ্রেফতার-২!! পটুয়াখালী জেলা ইসলামী আন্দোলন’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত; কাজী সরোয়ার সভাপতি, ওয়াহিদুজ্জামান সেক্রেটারী নির্বাচিত৷৷ পায়রার করাল গ্রাসে মির্জাগঞ্জ: জিওব্যাগেও ঠেকানো যাচ্ছে না ভাঙন৷৷ জিয়ানগরে কমিউনিটি পুলিশিং সভা: মা/দক-স/ন্ত্রা/স দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা৷৷  পাথরঘাটার হ/ত্যা মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক অভিযুক্ত আল আমিন র‌্যাব-৮ কর্তৃক গ্রে/ফতার৷৷  লাকসামে ৩ শিশু যৌন নিপীড়ন মামলার অভিযুক্ত মকবুল আটক৷৷ মাছ শিকারি আলী আহমদ হত্যা মামলার মূল আসামি মনির মিয়া গ্রেফতার৷৷

পায়রার করাল গ্রাসে মির্জাগঞ্জ: জিওব্যাগেও ঠেকানো যাচ্ছে না ভাঙন৷৷

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালী থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক:-বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগের কালো ছায়া। তীব্র স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হওয়া নদীভাঙনে প্রতিদিন পায়রার পেটে চলে যাচ্ছে ফসলি জমি, শত বছরের স্মৃতিবিজড়িত বসতি, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নদীভাঙনের এই নির্মম বাস্তবতায় দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে মির্জাগঞ্জের মানচিত্র।
উপজেলার রামপুর, ভিকাখালী, পিপড়াখালী, হাজিখালী এবং কাকড়াবুনিয়া বাজারসহ বিস্তীর্ণ জনপদে এখন চলছে ভাঙনের মহোৎসব। এর মধ্যে পিপড়াখালী গ্রামের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি মর্মান্তিক। নদীগর্ভে ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে বহু বসতবাড়ি, পাকা মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আকস্মিক এই ভাঙনে অনেক পরিবার তাদের ঘরের আসবাবপত্র বা প্রয়োজনীয় মালামালটুকুও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। চোখের সামনে নিজের স্বপ্ন ও সম্বলটুকু নদীর স্রোতে হারিয়ে যেতে দেখছেন অসহায় এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলেই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। পিপড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মো: জুয়েল হাওলাদার আক্ষেপ করে বলেন, “বর্ষা কিংবা শুষ্ক মৌসুম—পায়রার ভাঙন আমাদের নিত্যসঙ্গী। পানি উন্নয়ন বোর্ড বারবার বাঁধ নির্মাণ করলেও তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মূলত যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলেই আমাদের এই জনপদ আজ ধ্বংসের মুখে।
পিপড়াখালীর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তা মো: সুলতান আহেম্মদ জানান, পায়রার ছোবলে ইতিমধ্যেই বিখ্যাত পিপড়াখালী বাজারটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন। পিপড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সুজিৎ মজুমদার জানান, ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি এর আগেও একাধিকবার অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। কিন্তু ভাঙনের গতি থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে ভাঙনের মুখে পড়ে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাট ও বাজার এলাকাও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। মেন্দিয়াবাদ ও পিপড়াখালী গ্রামের কয়েক হাজার একর উর্বর ফসলি জমি, বসতি এবং কবরস্থান ইতিমধ্যে নদী গ্রাস করেছে। স্থানীয় বেড়িবাঁধে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, যার ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আশপাশের মানুষ। বসতভিটা হারিয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।
ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিব জানান, মির্জাগঞ্জের প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিই নদী তীরবর্তী হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা বেশি। পিপড়াখালীর ভাঙনকবলিত ঐতিহাসিক মসজিদটি রক্ষায় এবং ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে।
পায়রা নদীর তাণ্ডব থেকে মির্জাগঞ্জের মানচিত্র এবং সাধারণ মানুষের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নদীভাঙনের এই নির্মম থাবা থেকে জনপদকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অচিরেই মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : Aparadhsangbad