
জাফর আহমেদ।।
লালমাই উপজেলার যুক্তিখোলা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার দালিলিক ও দখলীয় ভরাটকৃত ভূমি পেরিফেরীতে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে উক্ত মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি।
৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে দশটায় যুক্তিখোলা বাজারের মেইন সড়কে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, যুক্তিখোলা ফাজিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মোতালেব হোসেন।
সহ-সভাপতি মাওলানা মোঃ তাজুল ইসলাম, শিক্ষানুরাগী মাওলানা মোঃ মমিনুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মাইনুদ্দিনসহ উক্ত মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলায় অবস্থিত যুক্তিখোলা ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা একটি স্বনামধন্য ও সুপরিচিত মাদ্রাসা। কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলাধীন আজবপুর মৌজাস্থিত সাবেক ৮৪৬ ও ৯৮৮ দাগ হালদাগ-২১৮২ এরিয়া ৬৬ শতক আন্দরে ৪৬ শতাংশ ভুমি যুক্তিখোলা ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার নামে বিএস খতিয়ান প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে এবং যথাযথভাবে খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে।
উক্ত ৬৬ শতাংশ ভূমি পুকুর ছিল। ১৯৯১ সালে তৎকালীন মাননীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক মাদ্রাসার খতিয়ানভুক্ত মাদ্রাসার এরিয়ার ভেতরের অন্য দাগের ভূমি হতে মাটি কেটে সম্পূর্ণ ৬৬ শতক জায়গা ভরাট করা হয় এবং ভরাটকৃত জায়গার কিছু অংশে গাছ লাগানো এবং বাকী অংশে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ রাখা হয়।
উক্ত ২১৮২ দাগে ০১ নং বিএস খতিয়ানে ২০ শতক ভূমি সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে, যার শ্রেণি বাস্তবে ভরাটকৃত মাদ্রাসার খেলার মাঠ হলেও পুকুর হিসেবে প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। এলাকার কিছু স্বার্থন্বেসী মহল বিএস ০১ নং খাস খতিয়াভূক্ত মাদ্রাসা কর্তৃক ভরাটকৃত মাদ্রাসার খেলার মাঠ ২০ শতক ভূমি রাস্তা সংলগ্ন উল্লেখ করে পেরিফেরী করে লীজ নিয়ে গরুর বাজার করে ব্যবসা বাণিজ্য করার প্রস্তাব বা পায়তারা করতেছে।
বর্তমানে অত্র মাদ্রাসায় ১ হাজার ২ শত শিক্ষার্থী অধ্যয়ণরত। উক্ত ১ হাজার ২ শত শিক্ষার্থীর একমাত্র খেলার মাঠ মাদ্রাসার ৪৬ শতক এবং সরকারের ০১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত ২০ শতক ভূমি মোট ৬৬ শতক ভূমি মাদ্রাসার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাদ্রাসা কর্তৃক ভরাটকৃত উক্ত ২০ শতক ভূমি পেরিফেরী করে লীজ দেওয়া হলে এবং গরুর বাজার করা হলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ আর থাকবে না।
এছাড়াও এলাকায় শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মক হমকির মুখে পড়বে পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীগন খেলার পরিবর্তে মাদকাসক্ত হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
২১৮২ দাগের ১নং খাস খতিয়ানের ২০ শতক ভূমি পেরিফেরী অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য ১ এপ্রিল কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবর মাদ্রাসার পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ মোঃ মোস্তফা কামাল আবেদন করেছেন।
উক্ত জায়গাটি পেরিফেরি না করে মাদ্রাসার খেলার মাঠ হিসেবে রাখার জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মোতালেব হোসেন মানববন্ধনে আহ্বান জানান।