
স্টাফ রিপোর্টারঃ–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের বেকিনগর এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই বালু উত্তোলন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইউনুস মিয়া বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, চান্দুরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বেকিনগর এলাকায় একাধিক ফসলি জমি থেকে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এতে করে আশপাশের শত শত বিঘা জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফলে পাশের জমিগুলোতে ভাঙন দেখা দিচ্ছে, যার ফলে অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বল চাষাবাদের জমিও হারানোর শঙ্কায় আছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, মেম্বার ইউনুস মিয়ার প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ বালু উত্তোলন চলায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয় বলে তাদের দাবি। এলাকার সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে ওই এলাকার কৃষি জমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযুক্ত ওয়ার্ড মেম্বার ইউনুস মিয়ার নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “আমার কিছু শত্রু আছে যারা অহেতুক আমার নাম বলছে। কিন্তু এই বালু উত্তোলনের সাথে আমি একা নই, আরও অনেকে জড়িত আছে।”
এ বিষয়ে বুধন্তী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব জানান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মহোদয়ের নির্দেশে তিনি ইতোমধ্যে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সেখানে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে এসেছি। তারা কথা দিয়েছে বালু তোলা বন্ধ করে দেবে। যদি এরপরও তারা পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু করে, তবে আমি আবারও সেখানে যাব এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করব।”
এদিকে এলাকার সাধারণ কৃষক ও সচেতন নাগরিকরা অবৈধ বালু উত্তোলন চিরতরে বন্ধ করতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।