বিরামপুর থানার (এসআই) এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ,পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ৷৷
প্রকাশিত:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
৪৩
বার পড়া হয়েছে
মোঃ রানা সরকার, বিরামপুর উপজেলা,(প্রতিনিধি):-দিনাজপুরের বিরামপুর থানার (এসআই) এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে অসদাচরণ,ক্ষমতার অপব্যবহার,তদন্তে পক্ষপাতিত্ব, আইনবহির্ভূত ভাবে থানা চত্বরে সালিশ পরিচালনা,আদালতের রায়ের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ এনে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিরামপুর উপজেলার ৩নং খাঁনপুর ইউনিয়নের কুর্শাখালি গ্রামের বাসিন্দা শ্রী মাছুয়া মার্ডি (৭৫)। অভিযোগটি ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়েছে বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে,গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল, বেআইনি অনুপ্রবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শ্রী মাছুয়া মার্ডি। অভিযোগটির তদন্তভার দেওয়া হয় বিরামপুর থানার এসআই এরশাদ আলীর ওপর। বাদীর অভিযোগ,২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিরামপুর থানার গোলঘরে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে প্রকাশ্যে বাদীপক্ষকে গালি গালাজ,ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। একই সঙ্গে মামলার কোনো পক্ষভুক্ত নন এমন ফুলবাড়ী থানার বারোকোনা গ্রামের নাজমুল ইসলাম নাজু নামে এক বহিরাগত মহুরিকে থানার বৈঠকে এনে বিবাদীপক্ষের পক্ষে কথা বলার সুযোগ করে দেন,যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে,বাদীপক্ষ আদালতের ফৌজদারি মামলার রায়ের কপি উপস্থাপন করলে এসআই এরশাদ আলী সেটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে রায়ের কোনো মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেন।
বাদীপক্ষের ভাষ্য,এ ধরনের আচরণ আদালতের আদেশের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,উক্ত ঘটনার পর বিবাদীপক্ষ দলবদ্ধ ভাবে লাঠি সোঁটা,ছুরি,তরোয়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি জবরদখল করে সেখানে ধান রোপণ করে। স্থানীয় লোকজন এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বিরোধপূর্ণ জমির তফসিল অভিযোগ অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জমির বিবরণে
জেলা: দিনাজপুর থানা: বিরামপুর
মৌজা: প্রয়াগপুর জে.এল. নং: ৪৩
সিএস খতিয়ান নং: ৭২,দাগ নং: ৬৮ (ডাঙ্গা) মোট ১.৫২ শতকের মধ্যে ০.৫০ শতক। এসএ খতিয়ান নং: ১৪৬,
দাগ নং: ৭১ মোট ৯১ শতকের মধ্যে ০.৩০ শতক। সর্বমোট বিরোধপূর্ণ জমি: প্রায় ৮০ শতক। অভিযোগে বলা হয়েছে,উক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে বাদী পক্ষের পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে ভোগদখলে থাকলেও বিবাদীপক্ষ জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে পূর্বেও বিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া অভিযোগে বাদীপক্ষ এসআই এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত,থানায় বহিরাগত ব্যক্তিকে এনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের তদন্ত,মূল জমি সংক্রান্ত অভিযোগ একজন ঊর্ধ্বতন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত এবং বাদী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই এরশাদ আলীর বক্তব্য জানা যায় তিনি সুন্দর আচরণে উভয় পক্ষকে আদালতের সরনাপন্ন হতে বলা হয়েছে। তবে তার কথা যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃত পক্ষে উক্ত শালিস বৈঠকে স্হানীয় সাংবাদিক তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা এবিষয়ে জানান,যে উক্ত ঘটনা সত্য, এসআই এরশাদ আলী শালিস বৈঠকে উপস্থিত লোকজনের সহিত খারাপ আচরণ করেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তার অপরাধের ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেছেন।