
মোঃ ফেরদৌস :-ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে আমন ধানের বীজ রোপণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সুলতান খান নামে সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা।
ঘটনার পরদিন, নিহতের ছেলে হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে কাঁঠালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে মো. মনির হাওলাদার, স্বপন হাওলাদার, জাকির হোসেন, ইলিয়াস হাওলাদার, ইমন খান, আব্দুল বারেক হাওলাদার, নুরুল হক হাওলাদার ও জামাল হাওলাদারসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়।
সুলতান হত্যা ঘটনার প্রায় দুই বছর হতে চললেও মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিয়ে হতাশায় দিন কাটছে নিহতের পরিবারের সদস্যদের।
এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামির নাম পুলিশের চার্জশিট থেকে বাদ পড়ায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদী। তার অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে ওই তিন আসামির নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশি তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদী হারুন অর রশিদ
২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর আদালতে নারাজি আবেদন করেন। ওই দিনই শুনানি শেষে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। বর্তমানে পিরোজপুর পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।
এর আগে কাঁঠালিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. আল আমিন ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে চার্জশিটে এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি ইমন খান, ১২ নম্বর আসামি নুরুল হক হাওলাদার এবং ১৩ নম্বর আসামি জামাল হাওলাদারের নাম বাদ দেয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার বাদী হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, “পুলিশ অর্থের বিনিময়ে চার্জশিট থেকে তিন আসামির নাম বাদ দিয়েছে। যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা সুলতান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিল।”
নিহতের পরিবার আশা করছে, পুনঃতদন্তে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উঠে আসবে এবং পুলিশি চার্জশিট থেকে বাদ পড়া আসামিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
মামলার বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহত সুলতান খানের পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। তাদের প্রত্যাশা, পিবিআইয়ের পুনঃতদন্তে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।