
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–
ব্রাহ্মণবাড়িয়াজেলার নবীনগরে তথ্য সংগ্রহের কাজ করার সময় র্যাবের তিন গোয়েন্দা সদস্যের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে র্যাব-৯। সোমবার (১১ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল পর্যন্ত উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতোয়া গ্রামে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নূরন্নবী এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
র্যাবের অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন,
আব্দুল কাদির (৬২) খাগাতোয়া গ্রামের মৃত গোলাম ওয়াহেদের ছেলে (হামলার অন্যতম হোতা)।
মোঃ রাহিম আহমেদ (২০) নয়ন মিয়ার ছেলে।
আব্দুর রহমান ওরফে অপু মিয়া (১৯) মুসলেম মিয়ার ছেলে।
নুর আলম ওরফে নুরনবী (১৯) হুমায়ুন কবিরের ছেলে।
ছানোয়ারা বেগম (৪৮) জামাল মিয়ার স্ত্রী।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে র্যাবের তিন গোয়েন্দা সদস্য তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাঞ্ছারামপুর এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে নবীনগরের খাগাতোয়া গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় কুখ্যাত ‘শফিক ডাকাত বাহিনী’র সদস্যরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।
হামলাকারীরা র্যাব সদস্যদের জিম্মি করে একটি গোপন আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের আটকে রেখে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। র্যাব জানায়, হামলার সময় এক গোয়েন্দা সদস্যের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়েছে।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর র্যাবের একটি শক্তিশালী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত সদস্যদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এরপরই অপরাধীদের ধরতে পুরো এলাকায় শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান।
হামলার মূল হোতা শফিক ডাকাত পালিয়ে গেলেও আমরা ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। আটক আব্দুল কাদির এই হামলার পরিকল্পনাকারীদের একজন।
র্যাব জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া শফিক ডাকাত ও তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।