
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–
কুষ্টিয়ার মিরপুরে গ্রেপ্তার এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে তদবির করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ পাঁচজন। শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদের থানা হেফাজতে রাখা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা এনামুল হক। এছাড়া আরও চারজন হলেন নওদা আজমপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম, সুজন আলী, আলাউদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম। পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্থানীয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নওদা আজমপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। পরে তাকে মিরপুর থানায় নেওয়া হলে কিছুক্ষণ পর ইউপি সদস্য এনামুল হকসহ পাঁচজন থানায় উপস্থিত হন। তারা আটক রবিউল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ওসির কাছে তদবির শুরু করেন।
একপর্যায়ে এ নিয়ে থানার ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ওসির সঙ্গে তাঁদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ তাঁদের থানার হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, “মাদকসহ আটক এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তদবির ও চাপ প্রয়োগ করছিলেন। এ কারণে তাঁদের থানায় রাখা হয়েছে। আটক মাদক ব্যবসায়ীকে রোববার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মহিউদ্দিন জানান, আটক চারজন সরাসরি জামায়াতের কোনো কমিটিতে না থাকলেও তারা দলটির সমর্থক এবং বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।