
আজ যেন একটু বেশিই নীরব কুমিল্লার বরুড়া। বাতাসেও ভেসে বেড়াচ্ছে এক অদৃশ্য শূন্যতা, না বলা এক গভীর বেদনা। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জাতির পিতা Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman-এর আজীবন বিশ্বস্ত সহচর এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা Abdul Hakim-এর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
২০১৪ সালের ২৩ মার্চ, ৮৫ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তবে তিনি কি সত্যিই চলে গেছেন? না—তিনি আজও বেঁচে আছেন বরুড়ার প্রতিটি পথঘাটে, মানুষের স্মৃতিতে, ভালোবাসার গভীরে।
আব্দুল হাকিম ছিলেন শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি ছিলেন মানুষের আপনজন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে হয়ে উঠেছিলেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সাহসী ভূমিকা আজও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে মানুষ। বরুড়া আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া তাঁর প্রতি জনগণের অগাধ আস্থা ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি শুধু ভোটের রাজনীতি করেননি, মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শ্রমজীবী—সবাইয়ের কাছে তিনি ছিলেন আস্থার এক নাম। মানুষের দুঃখে কেঁদেছেন, বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন—নিঃস্বার্থভাবে, নির্ভয়ে।
বরুড়ার উন্নয়নে তাঁর অবদান আজও দৃশ্যমান। সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক অবকাঠামো—সবখানেই রয়েছে তাঁর ছোঁয়া। তবে উন্নয়নের চেয়েও বড় ছিল মানুষের সঙ্গে তাঁর গড়ে তোলা হৃদয়ের সম্পর্ক।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে আবারও প্রমাণ করেছিলেন—মানুষ তাঁকে কতটা ভালোবাসে। আমৃত্যু বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন দল ও দেশের মানুষের কল্যাণে।
আজ তাঁর অনুপস্থিতিতে বরুড়ার প্রতিটি কোণ যেন নীরবে কাঁদে। যাদের জীবনের কঠিন সময়ে তিনি ছিলেন আশ্রয়, তারা আজও খুঁজে ফেরে সেই মানুষটিকে।
তিনি নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, মানবিকতা ও ভালোবাসা চিরকাল বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে।
আল্লাহ যেন এই মহান মানুষটিকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।
বিনম্র শ্রদ্ধা ও অশ্রুসিক্ত স্মরণে—
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম।