
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর, মুকুন্দপুর, আউলিয়া বাজার এবং সেজামুরা-খালাছড়া এলাকা এখন লিচুর মিষ্টি গন্ধে মুখরিত। সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলের লাল মাটি যেন লিচু চাষের এক আশীর্বাদ। প্রতি বছরের মতো এবারও এ সনয় আসতেই এ অঞ্চলে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিজয়নগরের মাটির বিশেষত্বের কারণে এখানকার লিচু হয় অত্যন্ত সুস্বাদু ও রসালো। বর্তমানে এই অঞ্চলের বাগানগুলোতে তিনটি প্রধান জাতের লিচুর জয়জয়কার:
বোম্বাই–আকারে বড় এবং চমৎকার রঙের জন্য বিখ্যাত।
চায়না-৩– মিষ্টি ও ছোট বীজের কারণে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ।
কাঁঠালি–স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় এবং বেশ মিষ্টি।
সকাল থেকেই আউলিয়া বাজারসহ স্থানীয় বাজারগুলোতে লিচু চাষি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভিড় জমছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা ট্রাক ভরে নিয়ে যাচ্ছেন এই লিচু। স্থানীয়রা বলছেন, এ সময় এলাকায় কোনো উৎসবের চেয়ে কম নয়। বাগান থেকে লিচু পাড়া, বাছাই করা এবং প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাজারো শ্রমিক।
লিচু কেবল স্বাদেই সেরা নয়, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে:
লিচুতে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ যা ত্বকের সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
পটাশিয়াম– হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট– শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
”বিজয়নগরের লিচুর মান অত্যন্ত উন্নত। আমরা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এই সুস্বাদু লিচু বিদেশের বাজারে রপ্তানি করার পরিকল্পনা করছি। এতে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে, তেমনি কৃষকরাও তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে। বিজয়নগরের লিচু এখন কেবল জেলা বা দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই লিচু বিদেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সঠিক সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে বিজয়নগরের এই ‘লাল মানিক’ বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে। সব মিলিয়ে, বিজয়নগরের লিচু চাষিদের চোখে এখন সোনালী স্বপ্নের হাতছানি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।