1. aparadhsangbad@aparadhsangbad.com : অপরাধ সংবাদ : অপরাধ সংবাদ
  2. info@www.aparadhsangbad.com : অপরাধ সংবাদ :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
মেঘনার ভাওরখোলায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: সাংবাদিকদের লেখালেখির পর অভিযুক্ত আটক বিজয়নগরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কৃষিজমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স: চৌদ্দগ্রামে অবৈধ মাটি কাটায় লাখ টাকা দণ্ড” সোনাই নদীতে অবৈধ বাঁধ অপসারণে প্রশাসনের অভিযান আখাউড়ায় সনদহীন চিকিৎসা: নয়ন ফার্মেসি মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। চৌদ্দগ্রামে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত। নেত্রকোণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযানঃ ৪৩ বোতল ভারতীয় মদসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক বিজয়নগরে যুবলীগ নেতা কাউছার গ্রেপ্তার মেঘনার শিকিরগাঁওয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান: ১৮০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে কম্বল বিতরণ

বিজয়নগরের সাপুটিয়া বিলে দুর্বৃত্তদের দাপট: দিশেহারা বৈধ ইজারাদার, আদালতে মামলা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আকুতি

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ-

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সাপুটিয়া বিল। সরকারি নিয়ম-নীতি মেনে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে এই বিলটি ইজারা নিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। কিন্তু ইজারাদারদের সেই স্বপ্নে এখন কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। জোরপূর্বক মাছ লুট, কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার এবং মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বৈধ লিজগ্রহীতারা। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবী নেতা নিখিল দাস।
গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিজয়নগর বুধন্তি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নিখিল দাস বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বিজয়নগর) আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৪২৯ বাংলা সন থেকে ১৪৩৪ বাংলা সন পর্যন্ত মোট ৬ বছরের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরকারি সকল নিয়ম মেনে সাপুটিয়া বিলটি ইজারা নেয় নিখিল দাসের নেতৃত্বাধীন সমিতি। কিন্তু ইজারা নেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের মৎস্য চাষে বাধা প্রদান করে আসছে।
সরেজমিনে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত চার বছর ধরে প্রতি মৌসুমে বিলে বাঁধ দেওয়ার সময় আসামিরা গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নীল নকশা তৈরি করে। যখনই ইজারাদারের লোকজন বিলে ‘পাটি’ বা বাঁধ দিতে যান, তখনই সংঘবদ্ধ চক্রটি দেশীয় অস্ত্র ও অবৈধ কারেন্ট জাল নিয়ে বিলে হানা দেয়।
ইজারাদার নিখিল দাস আক্ষেপ করে বলেন, “বিগত চার বছর ধরে এই আসামিদের কারণে আমার লক্ষ লক্ষ টাকার লোকসান হয়েছে। আমরা বৈধভাবে লিজ নিয়েও চোরের মতো ভয়ে থাকি।”
মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, চলতি মওসুমে গত ২৯ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখ দুপুরে যখন ইজারাদারের লোকজন বিলে বাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু করেন, তখন আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জোরপূর্বক বাঁধের ভেতর প্রবেশ করে। তারা একদিন-একরাত অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ নিধন ও লুটপাট চালায়। এতে বাধা দিতে গেলে ইজারাদারের লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধর করার হুমকি দেওয়া হয় এবং আসামিরা বলেন আমাদেরকে মাছ ধরতে বাঁধা দিলে বা মামলা করলে রাতেরবেলা বিষ দিয়ে বিলের সকল মাছ মেরে ফেলব। বর্তমানে ইজারাদার ও তার সহযোগীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।
সরকারি রাজস্ব দিয়ে লিজ নেওয়া বিলে এভাবে প্রকাশ্যে লুটপাট চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। নিখিল দাস ও তার সহযোগীরা জানান, দুর্বৃত্তরা এতটাই বেপরোয়া যে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কেউ পায় না। এ অবস্থায় মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং বৈধ ইজারাদারদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্হানীয় সচেতন মহল জানান, বিজয়নগরের মৎস্য সম্পদ ও ইজারাদারদের অধিকার রক্ষায় প্রশাসন কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট