‘যা মন চায় কর ! ইউএনও-এসিল্যান্ডের ধার ধারি না আমি৷৷
প্রকাশিত:
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
৩৭
বার পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিবেদ:-কক্সবাজারের পেকুয়ায় নামজারি নথি যাচাইয়ের নামে ঘুস নেওয়া এবং পরে কাজ না করে উল্টো ভুক্তভোগীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহসেনা আক্তারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী আইনজীবী নুরুল আবছারের দাবি, দুটি নামজারি নথি যাচাই ও প্রস্তাব দাখিলের জন্য তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর জানতে পারেন, ওই দুটি নামজারি মামলা খারিজ হয়ে গেছে।
খারিজের কারণ জানতে ভূমি কর্মকর্তার কাছে গেলে তাকে ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করা হয় এবং জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ নুরুল আবছারের।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ, তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে জানাবেন বললে ওই কর্মকর্তা নাকি বলেন,
‘তোর যা মন চায়, তা করিস। আমার কিছু করতে পারবি না। আমি ইউএনও-এসিল্যান্ডের ধার ধারি না।’
ঘটনাটি নিয়ে গত ৭ জুন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নুরুল আবছার।
শুধু নুরুল আবছার নন, আরও একজন ভুক্তভোগী নেজামত উল্লাহ অভিযোগ করেছেন, একটি খতিয়ানের নথি যাচাই ও প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তার কাছে ১ লাখ টাকা ঘুস দাবি করা হয়েছে। এর আগে উম্মেদারের হাতে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও কাজ না হওয়ায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করেন।
এদিকে অনুসন্ধানে বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা নিতে কথিত ঘুসের অঙ্কের একটি তালিকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। নামজারি নথি যাচাইয়ে প্রতি নথিতে ৩ হাজার টাকা, মিস রিভিউ মামলার প্রতিবেদনে ৫ থেকে ১০ হাজার, এমআর মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে ১০ থেকে ১৫ হাজার, অংশ সংশোধন ও করণিক ভুল সংশোধনের প্রতিবেদনে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে জমির পরিমাণ অনুযায়ী আরও বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এসব অর্থ উম্মেদার ছৈয়দ আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। তবে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহসেনা আক্তার দাবি করেছেন, অভিযোগটি মিথ্যা এবং এ বিষয়ে শুনানি হয়েছে। তবে আরও ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে অভিযোগে নাম আসা উম্মেদার ছৈয়দ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র যুগান্তর।
এখন প্রশ্ন হলো, ভূমিসেবা নিতে সাধারণ মানুষকে কি সত্যিই অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হচ্ছে? কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই সেটি সত্য প্রমাণিত হয় না। কিন্তু একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগ এলে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি।
ভূমি অফিসে মানুষের হয়রানি ও ঘুসের অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি মিথ্যা অভিযোগ হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া দরকার।
কারণ, একজন নাগরিকের জমির মালিকানা ও নামজারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা যদি নিজের ক্ষমতাকে জবাবদিহির ঊর্ধ্বে মনে করেন, সেটি শুধু একজন ভুক্তভোগীর সমস্যা নয়, পুরো ভূমিসেবা ব্যবস্থার জন্যই গুরুতর প্রশ্ন।:- সংগৃহিত