
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় একটি প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গোল দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে হওয়া এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শশই এলাকায় শশই মধ্যপাড়া এবং শশই কোনার বাড়ি দলের মধ্যে এই ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার আকর্ষণ হিসেবে বিজয়ী দলের জন্য একটি গরু এবং রানারআপ দলের জন্য একটি খাসি পুরস্কার হিসেবে নির্ধারণ করা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচের প্রথমার্ধে শশই কোনার বাড়ি দল একটি গোল দিয়ে এগিয়ে যায়। খেলা যখন শেষের পথে, ঠিক তিন মিনিট আগে আরেকটি গোলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় শশই মধ্যপাড়া দলের গোলরক্ষক হাতে আঘাত পেলে তাকে মাঠের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ ওঠে, খেলার উদ্যোক্তা ও সৌদি প্রবাসী ইব্রাহিম এ কাজে বাধা দেন, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
মুহূর্তের মধ্যেই মাঠের ভেতরে থাকা চেয়ার ও খুঁটি নিয়ে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুরস্কার হিসেবে রাখা গরু ও ছাগল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাটানি শুরু হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। মাঠের এই উত্তেজনা দ্রুত পুরো শশই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মূলত রেফারির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই ঝামেলার সূত্রপাত। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।