1. aparadhsangbad@aparadhsangbad.com : aparadhsangbad :
রাতের ঝড়–শিলাবৃষ্টিতে নালিতাবাড়ীতে তাণ্ডব: ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, খোলা আকাশের নিচে বহু পরিবার - অপরাধ সংবাদ
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
গলাচিপায় কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণী শিক্ষকদের সংবর্ধনা৷৷ বাগেরহাটে স্কুল ফিডিং এর ডিম খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১১ শিক্ষার্থী৷৷  কুমিল্লার  বাঙ্গরাসহ নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন৷৷ ৬ লেন সড়ক ও উপজেলা সহ ৯ দফা দাবীতে কুয়াকাটায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে মানববন্ধন৷৷ বাউফলে ডাকাতি মামলার  পলাতক আসামী  ডাকাত সর্দার ‘ বাচ্চু গ্রেফতার৷৷ দুমকিতে পাগলা কুকুরের কা/মড়ে শিশুসহ আহ/ত-১০৷৷   নোটিশের পরেও স্কুল ফিডিং এ মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি সরবরাহের অভিযোগ “কতৃপক্ষের ভুমিকা নিরব দর্শক!!!!! গলাচিপার বদনাতলী খেয়াঘাটে নদীর পানিতে রহস্যময় অবয়ব দেখার দাবি, এলাকায় চাঞ্চল্য!! গলাচিপায় মা/রধর, গু/রুত/র আহ/ত ও লু/টপা/টের অভিযোগে মা/মলা৷৷  বাউফলে অপসাংবাদিকতা রোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা৷৷ 

রাতের ঝড়–শিলাবৃষ্টিতে নালিতাবাড়ীতে তাণ্ডব: ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, খোলা আকাশের নিচে বহু পরিবার

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি:

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় টানা দুই রাতের আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে নেমে এসেছে এক মানবিক বিপর্যয়। প্রবল বেগের ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে, আর ঘর হারানো অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এর আগে শনিবার ও রোববার রাতে হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গুয়ারপাড় গ্রাম।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে তারাবির নামাজ চলাকালে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড় মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে কাঁচা, টিনশেড ও আধাপাকা ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোথাও কোথাও গাছ উপড়ে পড়ে, আবার কোথাও বাড়ির সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক ঘরের টিন ছিটকে গিয়ে দূরের গাছ কিংবা পাশের গ্রামে গিয়ে পড়ে।

সিঙ্গুয়ারপাড় গ্রামে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। রোববার রাতেও একইভাবে ঝড় ও বৃষ্টির তাণ্ডব চলতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর মো. মফিজুল ইসলাম জানান, ইফতারের দাওয়াতে পরিবারসহ বাইরে থাকায় তারা ঝড়ের সময় বাড়িতে ছিলেন না। পরে ফিরে এসে দেখেন, তাদের বসতঘর সম্পূর্ণ উড়ে গেছে। এখন তাদের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নেই।

স্থানীয়রা জানান, এমন ভয়াবহ ঝড়ের অভিজ্ঞতা তাদের আগে কখনো হয়নি। আকস্মিক এই দুর্যোগে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে।

রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. আজিজুল হক বলেন, এই দুর্যোগে ঘরবাড়ির পাশাপাশি গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আল মামুন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মশিউর রহমান জানান, শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের তেমন ক্ষতি না হলেও সবজি ও ভুট্টা চাষে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : Aparadhsangbad