
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মেড্ডা এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ১৪ মামলার এক আসামিসহ চার সদস্যের একটি ডাকাত চক্রকে গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির সরঞ্জাম, একটি মাইক্রোবাস, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২০ জুন ২০২৬) রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেড্ডা এলাকার কোকিল টেক্সটাইলের সামনে অভিযান চালায় সদর মডেল থানার একটি দল। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, সেখানে একটি দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এ সময় তাদের আরও ৮ থেকে ১০ জন সহযোগী পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়—২টি রামদা, একটি পেরেকযুক্ত গদা, সাইকেলের প্যাডেল সংযুক্ত একটি কুড়াল, একটি সাদা রঙের নোয়া মডেলের মাইক্রোবাস, নগদ ৩ হাজার ৩০০ টাকা, একটি হেলমেট, একটি মাংকি টুপি, একটি স্টিলের টর্চলাইট, ২টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ৯টি বাটন ফোন, মোটা রশির বান্ডিল ও হ্যান্ডকাফের একটি চাবি। উদ্ধারকৃত আলামত আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কসবা উপজেলার আদ্রা গ্রামের মো. রাশেক মিয়া, নবীনগর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মেড্ডা এলাকার রফিকুল ইসলাম এবং নবীনগর উপজেলার আলিয়াবাদ গ্রামের মো. কামাল মিয়া।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাশেক মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইন ও চুরিসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে তিনটি ডাকাতি মামলা এবং রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।