
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার লক্ষ্যে মাদকের চাহিদা হ্রাস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বিশাল মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পৈরতলা বাসস্ট্যান্ডে ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-এর উদ্যোগে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-এর সার্বিক সহযোগিতায় এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক সাজেদুল হাসান এবং ২নং পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ আলাউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খান বলেন, “মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান বলেন, “মাদকের চাহিদা কমাতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।”
এসময় পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিচালক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী। তিনি বলেন, “মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়তে আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এছাড়াও বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক সাবের হোসাইন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আতিকুর রহমান আপেল ও হারিস আহমেদ। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মাদক মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি মাহফুজুর রহমান পুস্প, ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি শামিম সায়েম, আল-আমিন, বায়জিদ খান গালিব, রেহেনা বুশরা ও হবির আহমেদ।
বক্তারা মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুরোধ করেন।
সমাবেশ শেষে বক্তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তোলা সম্ভব।