আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ–ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডোপ টেস্টের কিট সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পরীক্ষার কার্যক্রম। এর ফলে সরকারি চাকরিতে নবনিয়োগপ্রাপ্ত, বিদেশগামী কর্মী, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সনদ সংগ্রহ করতে না পেরে প্রতিদিনই অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এতে চাকরিতে যোগদান, বিদেশযাত্রা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিতে যোগদান, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ডোপ টেস্টের সনদ বাধ্যতামূলক। কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরে কিটের অভাবে হাসপাতালের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডোপ টেস্ট করাতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে সময় ও অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
নাসিরনগর উপজেলার ধর্মণ্ডল গ্রামের এমরান হোসেন বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করতে না পেরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করি। সেখানে জানানো হয়, ঢাকা জেলার বাসিন্দা ছাড়া অন্য জেলার আবেদনকারীদের ডোপ টেস্ট করা হয় না। পরে পিজি হাসপাতালে যোগাযোগ করলে জানতে পারি, সেখানে সরকারি হাসপাতালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ ফি নেওয়া হয়। তাই পরীক্ষা না করিয়েই ফিরে আসতে হয়েছে।”
একই অভিযোগ করেন বিজয়নগরের জাহাঙ্গীর মিয়া ও আখাউড়ার কালামসহ আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালে ডোপ টেস্টের ফি ৯০০ টাকা হলেও স্বায়ত্তশাসিত পিজি হাসপাতালে প্রায় ৩ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয়।
এদিকে বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সরকারি হাসপাতাল বা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডোপ টেস্ট সনদই গ্রহণযোগ্য। ফলে বিকল্প ব্যবস্থাও সীমিত।
বিশেষ করে যাদের সরকারি চাকরিতে যোগদানের নির্ধারিত সময় রয়েছে কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে বিদেশে যেতে হবে, তারা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডোপ টেস্টের সনদ না পেলে চাকরি বা বিদেশযাত্রার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরে ডোপ টেস্টের কিট সংকট চলছে। কিছু কিট শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।”
বিদেশগামী কর্মী ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাশীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নতুন করে চাহিদা পাঠিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে। ততদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডোপ টেস্ট করানো যেতে পারে।”
তবে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, জেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে যদি দীর্ঘদিন ডোপ টেস্ট বন্ধ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় কিট সরবরাহ করে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ জসীম উদ্দীন খোকন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলারর রোড, মতিঝিল বা/এ ,ঢাকা -১০০০
মোবাইল: ০১৭১১৭৮৫৯৯৮, ০১৭৩৩৭০২৮৬৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত