ওমর ফারুক মোল্লা :- পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশে জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক-ট্রলার ভর্তি গরু, ছাগল ও মহিষ নিয়ে ঢাকায় আসছেন খামারি এবং ব্যাপারীরা। হাটজুড়ে দেখা মিলছে কোরবানির চেনা আমেজ। হাটে পশুর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে এখনো ক্রেতার দেখা মিলছে না। ব্যাপারী ও ব্যবসায়ীরা আছেন ক্রেতার অপেক্ষায়। তাদের আশা, ঈদের শেষ তিন দিনে জমে উঠবে বেচাকেনা। শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যাপারীরা। একের পর এক ট্রাকভর্তি গরু এসে নামছে হাটে। কেউ পশুকে পানি খাওয়াচ্ছেন, কেউ খড় দিচ্ছেন। আবার কেউ গরুর গায়ে পানি ঢেলে গরম কমানোর চেষ্টা করছেন।
রাজধানীর হাটে এখন অন্য রকম ব্যস্ততা। শ্রমিকরা বাঁশ বেঁধে ঘেরা তৈরি করছেন, হাটজুড়ে চলছে জায়গা দখলের নীরব প্রতিযোগিতা। ব্যাপারীদের মতে, প্রবেশমুখ বা সামনের সারিতে জায়গা পেলে ক্রেতাদের নজর আগে পড়ে। তাই ভালো জায়গা নিশ্চিত করতেই চলছে আগাম প্রস্তুতি৷ গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গাবতলী ও পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে নদীর পাড়সংলগ্ন পশুর হাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে গরু আসছে। ছোট, মাঝারি ও বড়– সব ধরনের গরুই উঠতে শুরু করেছে হাটে। নদীপথে রাজধানীর আশপাশের এলাকা থেকে ট্রলারভর্তি পশু আসছে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের হাটে। ট্রলার পাড়ে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে পশুগুলো লাফিয়ে সরাসরি ঢুকে যাচ্ছে হাটে।
যারা এখন হাটে আসছেন তাদের মধ্যে ক্রেতার সংখ্যা কম। তারা পশু দেখছেন আর সেলফি তুলছেন। অনেকেই শুধু দাম জেনে চলে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, বাজারে পশুর দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। তবে ব্যাপারীদের আশা, শেষ পর্যন্ত পশু ভালো দামে বিক্রি হবে, লোকসান এড়ানো যবে। তবে বৃষ্টি নামলেও লোকশান গুনতে হতে পারে তাদের।পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশুর হাটে ঢুকতেই ডান পাশে হাসিল ঘরের সামনে চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির দুটি মহিষ। কুষ্টিয়ার ব্যাপারী রহিম মহিষ দুটি ঢাকায় এনেছেন। হাটের শুরুতেই ভালো দামের আশায় রাজধানীতে এনেছেন তিনি। রহিম ব্যাপারী জানান, হাট এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বলেই আপাতত দুটি মহিষ এনেছেন। এগুলো ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে আরও পশু আনার পরিকল্পনা রয়েছে তার। প্রতিটি মহিষের দাম চাওয়া হচ্ছে ৫ লাখ টাকা করে। তবে কেউ একসঙ্গে দুটি মহিষ কিনতে চাইলে কিছুটা দাম কমানো হবে বলেও জানান তিনি।
দুই দিন ধরে হাটে অবস্থান করলেও এখনো তেমন কোনো ক্রেতা দরদাম করতে আসেননি বলে আক্ষেপ করেন রহিম। তিনি বলেন, ‘হাট তো সবে শুরু হইছে। মানুষ এখনো শুধু দেখে যাচ্ছে। আশা করি শেষদিকে ক্রেতা বাড়বে, তখন ভালো দাম পাওয়া যাবে।’গাবতলী পশুর হাটে আসা যশোরের ব্যাপারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর গরু পালতে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। খাবার ও পরিবহন খরচ বাড়ায় মুনাফা নিয়ে চিন্তায় আছি। এখনো ক্রেতা কম, তবে শেষের দিকে বাজার জমবে বলে আশা করছি।’
হাটে আসা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। যারা আসছেন, তারা পশু দেখে দাম যাচাই করছেন। অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মানুষের আর্থিক চাপের কারণেও অনেকে হিসাব-নিকাশ করে পশু কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ জসীম উদ্দীন খোকন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলারর রোড, মতিঝিল বা/এ ,ঢাকা -১০০০
মোবাইল: ০১৭১১৭৮৫৯৯৮, ০১৭৩৩৭০২৮৬৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত