
নিজস্ব প্রতিনিধি:
পয়ালগাছা ইউনিয়ন ও আদ্রা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খতিয়ান খারিজে অতিরিক্ত টাকা আদায়, অবৈধভাবে বেকু ও ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা এবং সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির মতো অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খতিয়ান খারিজের ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন ও ডিসিআর ফিসহ সর্বোচ্চ ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে আদায় করা হচ্ছে সর্বনিম্ন ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে সাধারণ কৃষক ও ভূমির মালিকরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালচক্রের যোগসাজশে এ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, দুই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কিছু দলিল লেখক ও দালালের দৌরাত্ম্যে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, অবৈধ মাটি কাটার ঘটনাও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভাবশালী কিছু মাটি ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপন চুক্তির মাধ্যমে কৃষিজমি ভাড়া দিয়ে বেকু ও ড্রেজারের সাহায্যে নির্বিচারে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
তবে এলাকাবাসীর মতে, বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সাম্প্রতিক তৎপরতায় অবৈধ মাটি কাটার প্রবণতা কিছুটা কমেছে।
বরুড়া উপজেলা জুড়ে আরও একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু ব্যক্তি নিজেদের “হোমক প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক” বা কোনো প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ভূমি অফিসে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি “অমুক টিভির চেয়ারম্যান” পরিচয় দিয়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মোটরসাইকেলে বিভিন্ন অফিসে ঘুরে চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার ও চাঁদাবাজি প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তিতে নতুন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এদিকে বরুড়া উপজেলা সদরে কর্মরত এক নাইটগার্ডের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি উপজেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে খতিয়ান খারিজের দালালি করে সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এমনকি সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে উপস্থিত না থাকলে ওই নাইটগার্ড কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় অফিসে প্রবেশ করে ফাইলপত্রে হস্তক্ষেপ এবং সরকারি গোপনীয় নথি ফাঁস করার চেষ্টা করেন—এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, অসাধু দলিল লেখক ও তদবিরকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিটি ভূমি অফিসে টানিয়ে রাখা হলে সাধারণ মানুষ সচেতন হবেন এবং প্রতারণা থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবেন।
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে কৃষি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পয়ালগাছা ও আদ্রা ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে চলমান অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও অনুসন্ধান নিয়ে শিগগিরই প্রকাশিত হবে পরবর্তী প্রতিবেদন।