আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ-
শুক্রবার জুমার নামাজের রেশ কাটতে না কাটতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর ইউনিয়নে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। বাড়িখলা গ্রামের শান্ত পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এক ন্যক্কারজনক ঘটনায়। বাড়িখলা বহুমুখী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ঢুকে পবিত্র কোরআন শরিফে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বায়জিদ (৩০) নামের এক যুবককে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে ঘটা এই ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অভিযুক্ত বায়জিদ ওই গ্রামেরই মৃত এনামুল হক খোকন মেম্বারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে মাদ্রাসার ভেতর প্রবেশ করেন বায়জিদ। সেখানে রক্ষিত পবিত্র কোরআন শরিফে তিনি আগুন ধরিয়ে দেন এবং একপর্যায়ে পা দিয়ে লাথি মেরে চরম অবমাননা করেন। পবিত্র ধর্মগ্রন্থে আগুনের ধোঁয়া আর অবমাননার দৃশ্য দেখে আঁতকে ওঠেন উপস্থিতরা। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও স্থানীয় জনতা মাদ্রাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন।
পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফের এমন অবমাননা মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় জনতা। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বায়জিদকে আটক করে। স্থানীয়দের দাবি, বায়জিদ একজন নাস্তিক্যবাদী এবং সে সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কেই এই জঘন্য কাজটি করেছে। তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যেই সে এই ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।
এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হন বায়জিদ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যে ব্যক্তি সুস্থ জ্ঞানে আমাদের কলিজায় আঘাত দিয়েছে, আমাদের পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমরা অবিলম্বে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানাই।"
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নবীনগর থানা পুলিশ। তারা উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বায়জিদকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর ইসলাম জানান, অভিযুক্ত বায়জিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে সে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে সে আহত হওয়ায় তাকে পুলিশি হেফাজতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
ঘটনার পর থেকে বাড়িখলা গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর একটাই দাবি—তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ জসীম উদ্দীন খোকন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলারর রোড, মতিঝিল বা/এ ,ঢাকা -১০০০
মোবাইল: ০১৭১১৭৮৫৯৯৮, ০১৭৩৩৭০২৮৬৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত