1. aparadhsangbad@aparadhsangbad.com : অপরাধ সংবাদ : অপরাধ সংবাদ
  2. info@www.aparadhsangbad.com : অপরাধ সংবাদ :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
মেঘনার ভাওরখোলায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: সাংবাদিকদের লেখালেখির পর অভিযুক্ত আটক বিজয়নগরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কৃষিজমি রক্ষায় জিরো টলারেন্স: চৌদ্দগ্রামে অবৈধ মাটি কাটায় লাখ টাকা দণ্ড” সোনাই নদীতে অবৈধ বাঁধ অপসারণে প্রশাসনের অভিযান আখাউড়ায় সনদহীন চিকিৎসা: নয়ন ফার্মেসি মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। চৌদ্দগ্রামে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত। নেত্রকোণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযানঃ ৪৩ বোতল ভারতীয় মদসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক বিজয়নগরে যুবলীগ নেতা কাউছার গ্রেপ্তার মেঘনার শিকিরগাঁওয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান: ১৮০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ হ্যাভেন ৮৭ সোসাল অর্গানাইজেশনের উদ্দোগে কম্বল বিতরণ

গভীর রাতে রহস্যজনক আগুনে পুড়লো গ্রামীণ ব্যাংক

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৭২ বার পড়া হয়েছে

আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ-

গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো গ্রামীণ ব্যাংকের চান্দুরা শাখার ভিতরে আগুন । পেট্রোলের তীব্র গন্ধ আর আগুনের লেলিহান শিখা জানান দিচ্ছিলো, এ কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত নাশকতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় এই রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যাংকের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে অক্ষত রয়েছে টাকার ভল্ট। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গতকাল ১২ নভেম্বর, মঙ্গলবার গভীর রাত আনুমানিক ২টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের আমতলী বাজার এলাকায় গ্রামীণ ব্যাংকের চান্দুরা শাখায় এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। ব্যাংকের নাইটগার্ড প্রথম আগুনের শিখা দেখতে পান এবং দ্রুত ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।
ব্যাংকের চান্দুরা শাখার ব্যবস্থাপক মো. কলিম উদ্দিন জানান, “বাইরে থেকে কেউ পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নাইটগার্ড বিষয়টি বুঝতে পেরেই দ্রুত আমাদের খবর দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে পুরোপুরি আগুন নিভিয়ে ফেলে।” তিনি আরও জানান, আগুনে অফিসের ভেতরের সমস্ত আসবাবপত্র, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফাইলপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। কর্মীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বিজয়নগর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ওয়াসি আজাদ বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। ততক্ষণে স্থানীয়দের তৎপরতায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। এতে কিছু কাগজ ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে টাকার কোনো ক্ষতি হয়নি। ব্যাংকের ভল্ট অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।” টাকার ভল্ট অক্ষত থাকলেও, ব্যাংকের কর্মীদের জন্য এ ঘটনা এক বিরাট ধাক্কা। তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং কাজের পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। একদিকে গ্রাহকদের নিরাপত্তা, অন্যদিকে নিজেদের কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন তারা।
এই ঘটনার পরপরই বিজয়নগর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা কেউ দেখেনি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।” স্থানীয়দের ধারণা, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হেফাজতে ইসলামের মাওলানা আফজাল হোসেনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এই রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমতলী বাজার এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের মতো একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এটি নিছকই নাশকতা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে এই আতঙ্ক শুধু বিজয়নগর নয়, পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুড়েই ছড়িয়ে পড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের কর্মীরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি, তাদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সরকারের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট