1. aparadhsangbad@aparadhsangbad.com : aparadhsangbad :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি ধর্মঘট: দ্বিতীয় দিনেও জনদুর্ভোগ চরমে। - অপরাধ সংবাদ
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল বন্ধ ও আইনানুগ ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। ‎ সিরাজগন্জের কাজীপুর উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মাসিক মিটিং সভা অনুষ্ঠিত৷৷      ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুরে সেনাবাহিনী মোতায়েন৷৷   টেলিভিশন চ্যানেলের ওয়েবসাইটের অনুকরণে অপতথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ১৬ টি ভুয়া ওয়েবসাইট ও ৪০০ অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত’৷৷  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ‘১৪ মামলার আসামিসহ ৪ জন গ্রেফতার৷৷  জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) অনিয়ম ঠেকাতে  নির্বাচন ভবনের আশপাশের অবৈধ কম্পিউটারের দোকান উচ্ছেদে ইসির চিঠি৷৷  ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ২, হাসপাতালে ২২০৷৷ বাউফলে নেই শিক্ষার্থী তবুও চলছে ১৭জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম! পটুয়াখালীতে সাগর উত্তাল, মাছের অকাল, নিরাপদ আশ্রয়ে হাজার হাজার মাছধরা ট্রলার৷ মসজিদ থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা চুরি, সিসিটিভি দেখে আটক ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি ধর্মঘট: দ্বিতীয় দিনেও জনদুর্ভোগ চরমে।

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ১৮৮ বার পড়া হয়েছে

আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ-

২৮ জুলাই, ২০২৫: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি ও অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও জেলার সর্বত্র অটোরিকশা চলাচলের অনুমতিসহ বিভিন্ন দাবিতে এই ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই শনিবার (২৬ জুলাই) রাতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়, যার ফলে রোববার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।

ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন সোমবারও জেলার বিভিন্ন স্থানে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করছেন সিএনজি মালিক ও চালকরা। জেলার প্রধান সিএনজি স্ট্যান্ডগুলো থেকে কোনো অটোরিকশা ছেড়ে যায়নি। অনেক জায়গায় ধর্মঘটে শ্রমিকরা অন্য যানবাহন, বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলেও বাধা দিচ্ছে এবং যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরায় সিএনজি মালিক ও শ্রমিকরা মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
ধর্মঘটের কারণে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শহর থেকে গ্রামে বা গ্রাম থেকে শহরে যাতায়াতের জন্য যানবাহন না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজারো মানুষ। অনেকে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে যেতেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
এক যাত্রী জানান, “বিজয়নগর থেকে শহরে আসতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। চার-পাঁচবার গাড়ি বদল করে এ পর্যন্ত এসেছি।” আরেকজন বলেন, “সিএনজি বন্ধ, এমনকি অটোরিকশাও শহরে আসতে দিচ্ছে না। আমি নিজে সুহিলপুর থেকে হেঁটে এসেছি।”
চালক-মালিকদের অভিযোগ ও দাবি
সিএনজি ও অটোরিকশা চালক-মালিকদের প্রধান অভিযোগ ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা পুলিশি হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিনা কারণে গাড়ি জব্দ ও লাইসেন্স সংক্রান্ত দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন। চালকদের অভিযোগ, শহরে প্রবেশ করলে ট্রাফিক পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং রোগী নিয়ে গেলেও গাড়ি আটকিয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে, না দিলে হয়রানি করা হয়।
তাদের দাবিগুলো হলো:
অবৈধভাবে আটক করা শতাধিক সিএনজি অটোরিকশা শর্তহীনভাবে মুক্তি দিতে হবে।
পারমিট অনুযায়ী জেলার সব সড়কে (ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ব্যতীত) সিএনজি চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
লাইসেন্স নবায়ন ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।

জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বলেন, “দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মবিরতি চলবে।”
প্রশাসনের বক্তব্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না থাকায় ৭০টির বেশি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। কাগজপত্র নবায়ন করা হলে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং কেউ যদি পুলিশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও যুক্তিযুক্ত অভিযোগ দেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করে জনদুর্ভোগ লাঘব করার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : Aparadhsangbad